Logo

ফরিদপুরে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আ.লীগ নেতা শাহীনের অঢেল সম্পদ, দুদকে অভিযোগ


Admin05 প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩০, ২০২৪, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ /
ফরিদপুরে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আ.লীগ নেতা শাহীনের অঢেল সম্পদ, দুদকে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন শেখ এর অবৈধ অঢেল সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাঙ্গা উপজেলার শামসুদ্দিন মাতাব্বুর নামের এক ব্যক্তি। দুদকে দায়ের করা অভিযোগ ও  অনুসন্ধানে জানাযায়, শাহীন শেখ কৃষক পরিবারের সন্তান। তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন আঃ হক শেখের পুত্র ।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সিনিয়র নেতাদের টপকিয়ে কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে সুকৌশলে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভাগিয়ে নেন অতঃপর ২০১৭ সালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে ২০২২ পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন। উপজেলা আ.লীগ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ ও জেলা পরিষদের সদস্যপদকে পুঁজিকরে অল্প সময়ের মাঝে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে বেনামে বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট কাগজে কলমে তৈরী করে অনিয়মের পাহাড়ে বসে হয়ে যান কোটি কোটি টাকার মালিক।

অভিযোগে আরো জানাযায়, তিনি নিজ গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেন একটি বিলাসবহুল ৫ তলা বাড়ি । যাহার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। নিজ এলাকা ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় নামে বেনামে ক্রয় করেছেন ১০০ বিঘার অধিক জমি। এসব জমিগুলো খামিনারবাগ ১নং ও ২নং ডাঙ্গারপাড়, গঙ্গাধরদী, চুমুরদী, ৫৫ নং সদরদী, ৩৭ নং হাসামদিয়া মৌজা ছাড়াও ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, উত্তরা এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়াও ঢাকার রামপুরা ও উত্তরায় বিলাসবহুল দুইটি বাড়ীও নির্মাণ করেছেন। যাহার আনুমানিক মূল্য এবং নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০ কোটির অধিক। শাহীন শেখের গ্রামের বাড়ী ও ঢাকার উত্তরা এবং রামপুরার বাসায় অনুসন্ধান করলে নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ফরিদপুরে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আ.লীগ নেতা শাহীনের অঢেল সম্পদ, দুদকে অভিযোগ   ফরিদপুরে সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আ.লীগ নেতা শাহীনের অঢেল সম্পদ, দুদকে অভিযোগ

এছাড়াও তিনি শেয়ার বাজারে ২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছেন। শাহীন শেখ নিজেকে সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার রয়েছে নিপুন ট্রেডার্স ও সি এন ডি এফ নামের ঢাকা এয়ারপোর্ট ভিত্তিক কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট নামীয় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান ও বিভিন্ন পণ্য আমদানী রপ্তানী করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নিপুন ট্রেডার্স এর এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে সারা দেশে তিনি একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। যে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। মাত্র ৭ বছরে একজন কৃষক পরিবারে সন্তান হয়ে এত বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়া নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি বর্তমানে ৩২৬/৫ পূর্ব রামপুরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাস করলেও ৫ আগষ্টের পর থেকে আত্নগোপনে রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহীন শেখের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে শাহিন শেখের ভাই মনির হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এমন অভিযোগ থানায় করা হয়েছিল , পরে তাকে থানায় ডেকে আনলে তিনি অস্বীকার করেন। এগুলো মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ , যা আমাদের সম্মান ক্ষুন্ন করতে করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করলে থলের বিড়াল কালো না সাদা বের হয়ে আসবে এবং তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে শাহীন শেখকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানিয়েছেন শামসুদ্দিন । দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক সত্য প্রমাণিত হলে সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।