Logo

চিকিৎসক সেজে ডায়াগনস্টিকের মালিকের প্রতারণা, পঙ্গু হওয়ার পথে এক শিশু


dailytulpar প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০২৩, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ /
চিকিৎসক সেজে ডায়াগনস্টিকের মালিকের প্রতারণা, পঙ্গু হওয়ার পথে এক শিশু

তোলপাড় ডেস্ক:

শেরপুর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় জেলা হাসপাতালের সামনে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সুজন (উরফে জিয়া) ডাক্তার সেজে নিজেই শিশু রুমান (৭) নামের এক রোগীর হাড় ভাঙা চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দিনেও রুমানের হাত ভালো হয়নি। পঙ্গু হতে বসেছে রুমান। এ নিয়ে ভুক্তভোগী রুমানের নানি খোদেজা বেগম সিভিল সার্জনের কাছে বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। খোদেজার বাড়ি নকলা উপজেলার চরাঞ্চলে।

ভুক্তভোগী রোগীর নানী খোদেজার অভিযোগ গত ১৪ জানুয়ারি বিকালের দিকে রুমান (৭) খেলতে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলে। একজন লোকের পরামর্শে রাত ১০টার দিকে সার্জারি ডাক্তার আকলেছুর রহমান খান তুহিনকে দেখাতে এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসি। ডাক্তার তুহিনকে দিয়ে আমার নাতির চিকিৎসা করাতে চাইলে ডাক্তারের চেয়ারে বসে থাকা ওই সুজন নিজেকে ডাক্তার তুহিন পরিচয় দিয়ে নাতির চিকিৎসার করেন। চিকিৎসার সময় সুজন অপর এক সহযোগীকে ডাকেন। ওই সহযোগীই আমার নাতির ভাঙা হাতে প্লাস্টার ও তুহিন ডাক্তারের প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। নাতিকে বাড়িতে নিয়ে আসি কিন্তু চার সপ্তাহ পাড় হয়ে গেলেও ব্যাথা না কমায় সদর হাসপাতালের হাড়ের ডাক্তার আরিফের কাছে যাই। ডাক্তার এক্সরে করে দেখেন আমার নাতির হাতের অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে এবং জরুরিভাবে অপারেশন করার জন্য ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাক্তার তুহিনের শরণাপন্ন হয়ে জানতে পারি নাতির চিকিৎসা করা ডাক্তার আর তুহিন ডাক্তার এক ব্যক্তি নন। ডাক্তার সেজে চিকিৎসা করেছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সুজন এবং তার সহকারী হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট তরুণী কান্ত সরকার। এই প্রতারণার প্রতিবাদ করলে সুজন এলাকা ছাড়া করাসহ মামলা করার হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয় দেখান।

অসুস্থ নাতিকে নিয়ে ঢাকা ময়মনসিংহ দৌড়াদোড়ীতে অভিযোগ দিতে দেরি হলো। রুমানের বাবা নেই, তিনি একজন পোশাকশ্রমিক। আমরা গরিব মানুষ, ভুল চিকিৎসায় রুমান পঙ্গু হতে বসেছে। ভালো হতে বড়সর অপারেশন করতে হবে, লক্ষাধিক টাকা লাগবে বলে চিকিৎসক জানিয়েছে।হাসপাতাল এলাকার নানা সূত্র জানিয়েছে অভিযুক্ত এই সুজনের নামে অভিযোগের শেষ নেই। বড় ডাক্তার সেজে নিরীহ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানান রকম প্রতারণা করে আসছেন এই সুজন।এই নিয়ে অনেক বিচার সালিশ পর্যন্ত হয়েছে।কিন্ত সুজন থামে নি।

অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক অভিযুক্ত সুজনের দাবি তিনি কিছুই জানেন না। রোগীকে তিনি এর আগে কোনদিন দেখেননি। বদনাম রটানোর জন্য এক শ্রেণির লোক এসব করছে। ডাক্তার তুহিনের দাবি ব্যবস্থাপত্রের প্যাড তার তবে লেখা তার নয়।কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এসব করছেন। আর ব্যবস্থাপত্রের হাতের লেখা দেখে ডা. তুহিন নিশ্চিত করেন লিখা ফার্মাসিস্ট তরুণী কান্তি সাহার হাতের লেখা। ডা. তুহিন এই প্রতারণাকে ভয়ংকর অপরাধ বলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করেন। তিরি কিছুই জানেন না লেখাও তার নয় এমন দাবি ফার্মাসিস্ট তরুণীর।

সিভিল সার্জন ডা. অনুপম ভট্টাচার্য বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। স্বাস্থ্য প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মিলে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ মার্চ সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছে এখনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি।