
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার রাধাকানাই ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শিমুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৩৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে ইউপি সদস্যগণ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাধাকানাই ইউনিয়নে গত ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের কোন কাজ না করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাস্তা-ঘাট সংস্কার ও নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টিআর কাবিখা, বিভিন্ন ইউনিয়নের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল, কৃষকের কীটনাশক, সার, ধান বীজ ও পানির পাম্প (মর্টার) বিতরণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনৈক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাত করাসহ সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ বিতরণ না করা হয়নি। বরং ইউএনও নিজেই এসব প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বিভিন্ন প্রকল্পের কোন কাজ করা হয়নি। তবে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ইউএনও আরিফুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শিমুল । এর আগে চাল ও এমএস ডিলারশীপ নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি করলে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন দু’জন ডিলার। পরবর্তীতে আরিফুল ইসলাম সরকারি প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীদের মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন বলে জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।
আরো পড়ুন
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়, ইউএনও আরিফুল ইসলাম ইতিপূর্বে সদ্য সাবেক(বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত) উম্মে সালমা তানজিয়া, বিভাগীয় কমিশনার ময়মনসিংহ’র পিএস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ইউএনও আরিফুল ইসলাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হওয়ায় আর উপজেলা পরিষদের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির কোন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্থানীয় সচেতন মহল ।
তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন প্রেসক্লাবের সভাপতি হয়, তখন সেখানকার দুর্নীতি যে, সকল মাত্রা অতিক্রম করে তাঁর চাক্ষুষ প্রমাণ ফুলবাড়ীয়া উপজেলা ও নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তাছাড়া ইতিপূর্বেও উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিক মিলে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলা কৃষি অফিসের ২৪ কোটি টাকার কৃষি সরঞ্জামাদি (পাওয়ার টিলার,ধান মাড়াই মেশিন) লুটপাট করে। টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে এনে তাঁদেরকে কৃষক সাজিয়ে কৃষি পণ্য বিতরণের ভুয়া ছবি তুলে। উপজেলা প্রশাসন,কৃষি অফিসের সহায়তায় কৃষকের আইডি কার্ড, সহি স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকার কৃষি সরঞ্জামাদি নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে নেয়। আত্মসাৎকৃত কৃষি সরঞ্জামাদি কৃষি অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ভালুকা বিসমিল্লাহ মটর্সে বিক্রি করে (সকল ডকুমেন্টস সংরক্ষিত)।
এছাড়াও আরিফুল ইসলাম এ অর্থবছরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার টিআর,কাবিটা,কাবিখা প্রকল্প সমূহ থেকে প্রকল্প কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী আঃ করিম এর মাধ্যমে ১৩ টি ইউনিয়ন থেকে ০৮ লক্ষ টাকা করে মোট ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। ইউএনও আরিফুল ইসলাম, রাধাকানাই ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শিমুলের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর দায়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, উপজেলা প্রশাসনের দুর্নীতির প্রতিবাদে গত বছর ভুক্তভোগী কৃষক ও স্হানীয় সচেতন নাগরিক বৃন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানব বন্ধন করতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ ও গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানববন্ধন পন্ডু হয়ে যায়। এ নিয়ে জনমনে তখন চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :